admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা:অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন, দেশে অনেক বিষয় দেখার কেউ নাই, এটার ক্ষেত্রেও তাই। এ রকম একটা জিনিষ আমরা কেনো তৈরি করতে পারিনা? এই জিনিষটি তাইওয়ানে তৈরি হয় ,Bio Trade International, 3, Shagunbagicha , Shajan Tower , 2nd Floor , Dhaka 1000 আমদানি করে। এটা একটা ফরমায়েসি আমদানী। আমদানীকারক প্যাকেটের গায়ে বাংলা লেখা করেই আনেন। এটি ডায়াবেটিস মাপার স্টিক এবং ডায়াবেটিক রোগিদের জন্য খুব প্রয়োজন। এই বিষয়টি ফেসবুকে চান্স পাচ্ছে তার কারণ আছে। এর কভারের গায়ে সতর্কীকরণ আছে, আসল এবং নকল সম্পর্কে। এসব বিষয়ে আমরা বাঙ্গালীরাতো সিদ্ধ হস্ত। না হলে এবিষয়টায় সতর্কীকরণে কেন আসে। নকলটার আবার ছবিও দেওয়া আছে। তার মানে বাজারে নকল জিনিষ চালু আছে।
তবুও মন্দের ভালো তারা দয়া করে সতর্ক করে দায় সেরেছে। নিজেদেরটাই আসল বলে দাবী করেছে , যা সবাই করে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যেমন ঠকাতে সিদ্ধহস্ত তেমনি আমরা ঠকতেও ভালোবাসি। ২ মাস আগে কিনেছিলাম ৩৪০ টাকা এক প্যাকেট। কাল কিনলাম ৪৫০ টাকায়। জিজ্ঞাস করলে সেই যে স্মিত হাসি সহ অমোঘ বাণী ‘ দাম বেড়েছে’ । ডলারের দাম বেড়েছে সুতরাং এটার দামও বাড়বে এটা আমরা বুঝিনা তা নয়। তবে ছোট ২৫ স্টিকের একটি কৌটার জন্য ১১০ টাকা বাড়বে, এখানে একটা হিসাব আমরা ভোক্তারা দাবী করতে পারি। আরো একটা প্রশ্ন তো তুলতেই পারি , তাহলো আমদানীকারক কোম্পানী কভারে বাংলা লিখে আনতে পারে আর দাম টা লিখতে পারে না।
যে কোন পণ্যের গায়ে দাম লেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। না লেখা দন্ডনীয় অপরাধ। আমরা কি ধরে নেব অসৎ মতলবে , ক্রেতার গলাকাটার জন্যই এ ব্যবস্থা। এভাবে গলা কেটে ফিনফিনে পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে বছরে দুবার ওমরা করে বেহেস্ত ‘ওয়াজেব’করবে। প্রশাসন বা বানিজ্য মন্ত্রণালয় বা ঔষধ প্রশাসন অথবা কাউকে কোন কর্তৃপক্ষ ভেবে সাক্ষাৎকার নিলে তারা ডিপলোমেটিক জবাব দিবে ‘ লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে’। লিখিত অভিযোগ ছাড়াতো তারা কিছু করতে পারেনা।
এই যে , ফেসবুকে লিখলাম , অনলাইনেও লেখা হবে , এ সব লিখিত পর্যায়ে পড়ে কিনা ? এতদসংক্রান্ত কিছু আইনকানুন আছে সেটা আমরা জানি। তবে তা যদি কার্যকরী হতো তাহলে আগামী কালই আমদানী কারককে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা করে সোজা কাশিমপুরে নেওয়া হতো। দেশের ডায়াবেটিক রোগিরা এমনিতেই তো সর্বস্বান্ত , এর পরে আবার বোঝার উপর শাকের আটি। আমরা ইনসুলিন তৈরি করতে পারি , আমরা বিদেশে ঔষধ রপ্তানী করি আর সামান্য ডায়াবেটিক স্টিক বানাতে পারিনা এটা কেমন কথা ? আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা কম। তিনি জাতিকে সঠিক তথ্য দেননা। সংসদে দাঁড়িয়েও তিনি অসত্য কথা বলেন। চিকিৎসার জন্য আমাদের দেশ থেকে প্রচুর মানুষ বিদেশে যায় ,দেশের টাকা বিদেশে চলে যায় , বিদেশ থেকে এসে ভুক্তভোগিরা যে সব তথ্য দেয়, তাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীনতাই প্রকাশ পায়, দেশের মানুষের আস্থা কমে।
অথচ দেশে বিশ্বমানের ডাক্তার , হাসপাতাল , যন্ত্রপাতি সবই আছে , নাই শুধু ব্যবস্থাপনা আর কমিটমেন্ট। অন্য দেশে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী যেদিনই সংসদে এই সব বক্তৃতা করেছেন পরদিনই কেবলমাত্র ভারতের ভিসা সেন্টার থেকে তথ্য নিলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে মন্ত্রীসভা থেকে বিদায করার যথেষ্ট উপকরণ পাওয়া যেতো। এটাওতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আপনিইতো আমাদের শেষ ভরসাস্থল। দেখতেই যখন হবে, পদ্মা সেতু যেমন তৈরি হয়েছে ,ডায়াবেটিক স্টিকের মতো একটা ছোট একটা জিনিষ দেশে তৈরি করে ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিক রোগিদের অশেষ উপকারের ব্যবস্থা করুন।