admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২২ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, তৌহিদা জ্যোতিঃ হাসবেন্ড তার স্ত্রী কন্যা রেখে মৃত্যু বরণ করলে তার সম্পত্তির অংশীদার কে হবে?
কতটুকু অশ্রু গড়ালে হৃদয় জলে সিক্ত
কতো প্রদীপ শিখা জ্বালালে জীবন আলোয় উদ্বিপ্ত,
কতো ব্যাথা বুকে চাপালে তাকে বলি আমি ধৈর্য??? “”
গানটি রচিত হয়েছে পিলখানার হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে। কিন্তু গানের কথাগুলো অনেক সময় ব্যাক্তি জীবনেও অনেকের জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে, কখনো ব্যাক্তি জীবনে দৃশ্যমান হত্যাকান্ড হয়েছে আবার কখনো অদৃশ্য ( হৃদয় হত্যা) হত্যাাকান্ড হয়েছে, আর এই হত্যার পেছনে অন্যতম কারন হলো অর্থ ও সম্পদ।। নির্মমতার চরম শেখরে পৌঁছায়যাদের মধ্যে সম্পত্তি লোভ লালসা থাকে।
একজন হাসবেন্ড তার স্ত্রী কন্যা রেখে মৃত্যু বরণ করলে তার সম্পত্তির অংশীদার তারাই হবে যারা সুখে দুখে তার পাশে ছিলো এবং সাংসারিক জীবনে তাকে দুঃসময় গুলোতে হেল্প করেছিলো।হাসবেন্ড তার রেখে যাওয়া সম্পতি নিজে বা তার পরিবারকে ভোগ না করে ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসেবে রেখে দেয়।
তার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তির অংশীদার যখন স্ত্রী কন্যা বাদে অন্য কেউ দাবি করে, এটা কতোখানি নির্মমতা আর নির্লজ্জতা ——!!!!! যারা একটি বারও খবর নেয়না মৃত ব্যাক্তির স্তী সন্তানেরা কিভাবে জীবন যাপন করছে তারা আর্থিক কোনো সেয়ারিং নেই তারা কিভাবে মৃত ব্যাক্তির সম্পত্তির দাবিদার হতে পারে,সেই যোগ্যতা কি তাদের আছে ।
শত ধিক তাদের!!!! যে ব্যাক্তিটা মৃত্যু বরণ করেছে সে কি তাদের জন্য তার নিজস্ব সম্পত্তি সংরক্ষণ বা সঞ্চিত করে রেখেছে, অবশ্যই না। কারন সব পুরুষই তার সম্পত্তি সংরক্ষণ করে তার নিজের পরিবারের জন্য,( স্ত্রী, সন্তান,মা বাবা) এর বাহিরে কোনো সার্কেল থাকতে পারেনা, ভাই বোন যারা আছে তাদের আপ্যায়ন, খোঁজ খবর,বিপদে পাশে দাড়ানো বা আর্থিক সহোযোগিতায় এটা করতে হবে, সেটাও দায়িত্ব, কিন্তু তার রেখে যাওয়া সম্পদ তার স্ত্রী বা সন্তানকে বঞ্চিত করে অন্যান্যদের দান নিশ্চয় সে বেঁচে থাকলে করতো না৷
তার মৃত্যুর পর আইনের দোহাই দিয়ে কিছু নির্লজ্জ ব্যাক্তি মৃত ব্যাক্তি সম্পত্তির অংশীদার হতে চায়। শুনলে ,হাশিও পায়!!!
অর্ধ শিক্ষিতরা জানেও না যে অংশীদারিত্ব নিতে গেলেও যোগ্যতা লাগে। মৃত ব্যাক্তির যদি নাবালক সন্তান, অবিবাহিত সন্তান এবং পড়ালেখা করা সন্তান থাকলে সেই পরিবারের খোরপোশ দিতে হয় বাচ্চাদের মানুষ করার ও পড়ালেখা করার খরচ বহন করতে হয় তাহলে সে অংশীদারিত্ব দাবি করতে পারে, আবার মৃত ব্যাক্তির স্ত্রী সন্তান রিট করলে তার দাবি সিকৃতি পাবেনা। এটা অনেকেই জানে না৷
অনেকেই আছে পুত্র সন্তান না থাকলে , সম্পত্তির লোভে বাটোয়ারায় নিজের অংশ বারানোর জন্য কন্যা সন্তান কে ওয়ারিশ মনেই করেনা। কন্যা সন্তানও যে সন্তান তা একবারও মাথায় নেয়না। কনয়া সন্তান আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত, যারা আল্লাহর নেয়ামত কে অস্বীকৃতি করে জানিনা তারা মানুষের কাতারে পরে কি না।
একটা বারও তারা ভাবে না, ভাই মৃত্যু বরণ করেছে, তার স্ত্রী ধৈর্য ধারন করে ভাইয়ের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায় তার বাকিটা জীবন,তার সাথে বিরোধ না করে তার মাথায় হাত রেখে বলি,আমরা তো আছি হতাস হবে না , অর্থের দরকার নেই এটুকু কথা বলার জন্য অর্থ কখচ করতে হয়না,কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে এটাও করেনা সুধুই পরিকল্পনা তার তো কন্যা সন্তান তাই নিজের ভাগে কতটুকু আসবে সেটার হিসেব কষে আঙ্গুলের রেখায়,।
বাহ্ ওয়ারিস, সেলুট নাকি শত ধীক, তুমিই বলো কোনটা প্রাপ্য তোমার -????? যা হোক অনেক লিখে ফেললাম, আসলে এরকম চিত্র অনেক পরিবারেই হয়, সচরাচর ঘটে সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। তাই কন্যা সন্তানের বাবার উচিৎ বেঁচে থাকতেই ব্যাবস্থা নিন যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার স্ত্রী সন্তানের যেনো এরকম তিক্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
তবে এর ব্যাতিক্রম পরুবারও আছে যারা অনেক হেল্পফুল। এতো কিছুর পরও শত ব্যাথা বুকে চাপিয়ে ধৈর্য ধারন করে নিজে বাঁচে হবে সন্তানদের বাঁচাতে হবে এটাই একজন নারীর পরিচয়। “” কতো ব্যাথা বুকে চাপালে তাকে বলি আমি ধৈর্য “”” গানের এই লাইন টি আমাকে আরও ধৈর্য ধারন করার প্রেরনা যোগায়।
যারা জীবনে এক টাকা দিয়ে সহযোগীতা করেনি তারে স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ পায় কিভাবে? দেশে নতুন আইন করে এই দাবী বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। আশা করি লেখাটা সবাই পড়বেন।