admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২২ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ আমরা কিন্তু রেলমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বই করতে চাই। এ বিষয়ে আমাদের কারো কৃপণতা নাই। পার্বতীপুর -পঞ্চগড় ৩ বগীর একটা ট্রেন ৮ঘন্টায় এসে আবার ফিরে যেতো। সারা দুনিয়াতে সবচেয়ে কম খরচে নিরাপদ পরিবহণ রেল যোগাযোগ। এটাকে প্রায় হিমাগারে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান সময়ে রেলের অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে। এখন ডবল গেজ লাইন , ৫টা আন্তনগর ট্রেন। একটা ডেমু বন্ধ আছে। ট্রেন জার্নি কতটা জনপ্রিয় , টিকিট কাটার কাউন্টারে গেলে বা অনলাইনে ঢুকলে বোঝা যায় । আরো ট্রেন চালু,নিদেন পক্ষে ট্রেনের বগি আরো ৫টা করে বাড়ানো জরুরী।
বিপরীতে খুব ছোট একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাহলো প্রতিটি স্টেশনে কিছু ‘ভাগনে’ কাজ পেয়েছে। তাদের আয় রোজগারের ভালো ব্যবস্থা হয়েছে। তারা প্রতিদিন টিকিট কাটে, প্রতিদিন ঢাকা যায়। সকালে এসে ঠেলাঠেলি করে সব টিকিট নিয়ে নেয়। সাধারণ মানুষ যারা টিকিট করার জন্য লাইনে দাঁড়ায় তারা কুলাতে পারেনা। যারা ঠেলাঠেলি করে তাদের মধ্যে বেশ সমঝোতা আছে। ঠেলাঠেলি হয় কিন্তু মারামারি হয়না। কাউন্টারের কর্মকর্তারা তাদের চেনেনা এমনতো নয়। বরং তারা সহযোগিতাই করে। না হলে প্রতিদিন তারা টিকিট কাটে কেমন করে? এদের পেশা , রেলের টিকিট কাটা।
রেলমন্ত্রী কদিন আগে ‘ভাগনেদের ’নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। তা অবশ্য কাটিয়ে উঠেছেন। নুতন ‘ভাগনেদের’ যন্ত্রনায় টিকিটতো আর পাওয়া যাচ্ছেনা। কাউন্টারে, অনলাইনে কোন টিকিটই নাই। টিকিট নাকি পানের দোকানে পাওয়া যায়। তাহলে টিকিট কাউন্টার বা তার কর্মচারীর কি দরকার? বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। ১ হাজার টাকার টিকিট যদি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয় , মানুষও কিনতে বাধ্য হচ্ছে কিন্তু টাকাতো রেলওয়ে পায়না। কালোবাজারীর রেটটাও অসহনীয় বেড়েছে। তাহলে টিকিটের দাম বাড়ালেও মানুষের আপত্তি থাকবেনা। তবে শর্ত প্রযোজ্য। শর্তটা খুবই সহজ এবং সংক্ষিপ্ত। যারা যাত্রী তারা টিকিট পাবে। ‘ভাগনেদের’ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়। ভাগনেরাই এখন রেলওয়ের ‘কালো বিড়ালের’ বাচ্চা।
যখন ট্রেন এবং বিমান ছিলনা তখনতো ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ঢাকা যাতায়ত করেছে , তখনতো টিকিটের জন্য এতো হাহাকার হয়নি। ট্রেনে ৫ দিন আগে টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু পাওয়া যায়না। বাসের টিকিট দ্বিগুন হলেও নাই। বিমানের কোন টিকিটই নাই। ১৭ তারিখ কেবল মাত্র একটি এয়ার লাইনস এর ২টি ফ্লাইটে টিকিট আছে। টিকিটমুল্য ১০৮০০টাকা। যখন ট্রেন ছিলনা ,টিকিটের প্রশ্নও ছিলনা। এখন ৫টা ট্রেন , কোন টিকিট পাওয়া যায়না। আমরা এ ট্রেনের জন্য আান্দোলন ঘেরাও , ট্রেন র্যালী করেছি , মানব বন্ধন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী বিষয়টাকে ইতিবাচক ভাবে দেখেছেন।
আমরা ট্রেন পেয়ে সব ভুলেছি এবং তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছি। এখন কোনভাবেই টিকিট পাইনা। তরুণরা ভাবতে শুরু করেছে এ ট্রেন না থাকাই ভালো। খামাখা কর্মচারীদের পোষা। দরকার কি আবার আমরা মানববন্ধন করবো ট্রেন বন্ধ করার জন্য। আমাদের ভাবতে অবাক লাগে জনপ্রতিনিধিরা কিছু বলেননা কোন? প্রশ্ন করা যেতেই পারে , আপনারা কাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। নাকি তারা আপনাদেরই লোক? গ্যারান্টি দিয়ে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি , আপনাদের নামে শ্লোগান দিলেও ওরা আপনাদের লোক নয়। ওরা আপনাদের এ্যসেট নয় , দায়। অন্তত একটু ফোঁস ফাঁস করুন। আর প্রশাসনকে তো কিছু বলার নাই।
সরকারের ঠেকা আছে তাদের কাছে। এতো লেখালেখি হচ্ছে , ভুক্তভোগিরা ফেসবুকে লিখছেন , সাংবাদিকরা সচিত্র প্রতিবেদন করছেন , প্রিন্ট মিডিয়াতে লেখালেখি হচ্ছে। সময় পেলে হয়তো কোন একদিন আধাঘন্টার মোবাইল কোর্ট করে ছোট একটা বিড়ালেরও ছাও এর ২০০ টাকা জরিমানা করবে। জনপ্রতিনিধিরা উজিরে খামাখা , প্রশাসন মনে করছে না কিছু করা দরকার , আমরা আম পাবলিক যাবো কোথায়? মাননীয় রেলমন্ত্রী , ভাগনেদের নিয়ন্ত্রণ করেন নচেৎ আপনার ট্রেন আপনি নিয়ে যান।