admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২২ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ রেলমন্ত্রীর তড়িৎ পদক্ষেপে ১ দিনেই রেল ধর্মঘট স্থগিত হয়েছে।বোঝা গেল, ধর্মঘটটা এড়ানো যেতো। রেলওয়ের কর্মচারীরা বেশ অভিজ্ঞ। তারা জানে কখন আন্দোলন করলে জনগন জিম্মি হবে, সরকার বেকায়দায় পড়বে। তাদের দাবীও আদায় হবে। এ জন্য তারা সময় বেছে নিয়েছে ঈদের আগে রমজান মাসে। খবরে জানা গেছে বিভিন্ন ষ্টেশনে যাত্রী সহ ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। কর্মচারীদের ধর্মঘট। ট্রেন আর যাবেনা। ভাবুনতো ট্রেনে দুর পাল্লার যাত্রী আছে, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, মানুষ আছে। সবাই যে অনেক টাকা কড়ি নিয়ে ট্রেনে চড়েছেন তাও তো নয়। কেউ চিকিৎসা কেউ ব্যবস্যা , কেউ কর্মস্থলে, কেউ ওমরা হজ করার জন্য বিমান ধরতে,কেউ চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন।
রেলওয়ের কর্মচারীরা বাঘ। ওরা রক্তের স্বাদ পেয়েছে সে কারণে হাত সরানো যাচ্ছেনা। রেলওয়েতে দীর্ঘদিনেরঅনিয়ম আছে। এটা গোটা জাতি জানে। রেল কর্মচারীদের এই ধর্মঘটের খবরে দেশের তাবৎ মানুষ ফেসবুকে যে মন্তব্য লিখেছেন , তা যদি কেউ পরেন তাহলে রেলকর্মচারীদের সম্পর্কে একটা ধারনা জন্মাবে। মানুষের মনে কত ক্ষোভ। এসব ক্ষোভের বহি:প্রকাশ রেল কর্মচারীদের চরিত্র চিত্রনে যথেষ্ঠ। কর্মচারীদের মধ্যে সততার পরিমান এতো কম যা ব্যতিক্রম এবং তা হিসাবে আনাই যাবেনা।
চুরি বাটপারী, অব্যবস্থাপনা, লুটপাঠ রেলকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল ,কর্মচারীরা কি ভেবে দেখেছেন?। রেলতো ডুবে গিয়েছিল। রেলকে ডোবানের কর্মকান্ডের সহযোগি আপনারা। তাকে বাঁচানোর চেষ্টাতো আপনারা করেননি। বর্তমান সময়ে রেল যে একটা পরিবহন,তা মানুষ জানতে পারছে । রেলের পরিধি বাড়ছে। পরিসেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। রেলকে লাভজনক ও নিরাপদ পরিবহন করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টার কোন অভাব নাই এর স্বাক্ষীতো আপনারাই। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির সমস্যা থাকতেই পারে। তাই বলে সাধারণ মানুষকে হঠাৎ করে জিম্মি করে দাবী আদায় এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেলওয়েকে যখন জাতে তোলার চেষ্টা করা হচেছ তখন কর্মচারীদের এই হঠকারী পদক্ষেপ আমাদেরকে বিক্ষুব্ধ করে। কর্মচারীদের প্রতি আমাদের সকল সমবেদনা উবে যায়।
আপনারা মাইলেজ নিয়ে আন্দোলন করছেন। প্রকৃত সমস্যাটা আমরা জানিনা। এটা রেল কর্মচারী ও রেলওয়ে জানে। করোনাকালীন দু বছর বসে বেতন নিয়েছেন তখন যদি বলতে আমরা কাজ করিনি সেজন্য বেতন নিবনা। ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় বিএনপি সরকার একটা ভালো কাজ করেছিল। ছাত্তার সাহেবের সময় ব্যাংক কর্মচারীরা অহেতুক ধর্মঘট করেছিল। বিএনপি সেটা শক্ত হাতে দমন করেছিল। ফেসবুকে যত পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তাদের সবার মতামত সেই রকম। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী যদি সে রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।
কিন্তু তিনিতো আবার মানবতার মা। এটা করা যাবেনা, তার কারণ এক দিনের নোটিশে রেলের ড্রাইভারদের বিদায় করে সম পরিমান লোক নেওয়ার সামর্থতো আমাদের নাই। আমরাতো মুখে বলি কিন্তু কার্যত: টেকনিক্যাল এডুকেশনকে দাম দিই না। যে কোন ক্ষেত্রে বিকল্প জনশক্তি তৈরি করতে হবে। আমাদের সে পরিমান দক্ষ আধাদক্ষ ড্রাইভার যদি থাকতো তাহলে এই পদক্ষেপ নেওয়া যেতো। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ভাবতে হবে। গত ঈদে রেল ব্যবস্থা কিছুটা হলেও সুনাম কুড়িয়েছে। আশা করেছিলাম এবারের ঈদে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রেলওয়ে আরো ভালো করবে। সে গুড়ে কি বালি পড়তে যাচ্ছে। তবে যে কাজটি জরুরী তা হলো এই সমস্যাটা নিশ্চয় দু’চার দিনে হয়নি। আবার কর্মচারীরাও যে কর্তৃপক্ষকে বলেনি তাতো নিশ্চয় নয়। যারা এটার সমাধান করতে পারতেন তারা করেননি।
রেলওয়ের এতো মেধাবী আমলাদের আমাদের দরকার নাই। উচ্চ মেধার কারণে কর্মচারীদের ছোট খাট এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কোন কিছু আছে বলে তারা মনে করার সময়ই পাননি। এতো মেধাবীদের প্রাপ্য মর্যাদা এবং উপযুক্ত বেতন ভাতা দেওয়ার সামর্থ বাংলাদেশের নাই। রেলের চাকুরীতে তাদের ধন্যবাদ দেওয়া ই ভালো। তাহলে বিষয়টা স্পষ্ট, রেলওয়ের মাথাভারী আমলাদের অদক্ষতা অনভিজ্ঞতার জন্য আজ এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট অনুভব করতে পারি বিষয়টি সাবোটাজ। রেলওয়ের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে আছে তারা। ছাত্তার সরকারের মতো আগামী কাল থেকেই তাদেরকে যদি চাকুরীচ্যুত করা যেতো তাহলে দেশের মানুষ খুশী হতো। শাস্তিই অদক্ষ আমলাদের প্রাপ্য।
এতো মেধাবী আমলাদের আমাদের দরকার নাই। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী রেলের ঐসব অথর্ব কর্মকর্তাদের বিদায় করলে শুন্যস্থান পুরণের মতো যথেষ্ট পরিমান মানুষ দেশে আছে। রেলওয়ে জরূরী সেবার আওতাভুক্ত। যখন খুশী ধর্মঘট ডেকে দিলাম আর হলো তাতো হবার কথা নয়। অবশ্য এই জাতের নজীর তো আগেই স্থাপিত হয়েছে। তেলের দাম বাড়ানোর সময় বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবীতে জনসাধারণকে জিম্মি করে কৌশলী ধর্মঘট করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে নেতারা বলেছিলেন চালকরা ছুটিতে গেছেন। দেশের সমস্ত ড্রাইভার হেলপার একসঙ্গে স্বেচ্ছা ছুটিতে গিয়েছিল।
সেই জাতীয় ঘটনারইতো পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরাতো পরামর্শ দিতে পারিনা। তাকে পরামর্শ দেওয়ার একটা পদ্ধতি আছে। তবে আমরা এ মতামত ব্যক্ত করতে পারি , কৌশলী আন্দোলনের চাপে কর্মচারীরা হয়তো কিছুটা সুযোগ সুবিধা আদায় করবে। যখন যেমন তখন তেমন তা নয় আমাদের মতামত হলো এর জন্য একটি কমিশন গঠন করে পুংখানুপুংখ বিচার বিশ্লেষন করে রেল কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে বেতন ভাতার বিষয় সমাধান করা হোক। যাতে হঠাৎ করেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি হতে না হয়।