admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২২ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা- অ্যাাডভোকেট আবু মহীউদ্দিনঃ অনেকদিন সহ্য করার পর স্বাস্থ্য বিভাগ ভুয়া ডাক্তার, মানহীন ক্লিনিক, ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে হাজারেরও বেশি ক্লিনিক ও মানহীন ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। এদের কোন অনুমোদন ছিলনা। অনুমোদন ছাড়া স্বাস্থ্য সেবার আতংকের মধ্যে আমরা আছি।
এই পদক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয় এবং ভালো। দেশের মানুষ খুবই আশাবাদী হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো এই অভিযান কতটুকু স্থায়ী হবে। দেশের সকল মানুষেরই স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। সবাইকে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। দেশের সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলি দু চারটে ছাড়া সবাই স্বাস্থ্য সেবার চাইতে বানিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বেশী। তারপরেও বেসরকারি ক্লিনিক দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তবে আমরা চাই অনুমোদনহীন কোন ক্লিনিক থাকতে পারবেনা।
এই প্রসঙ্গে এই অভিযানের বিষয়ের অনেক প্রশ্ন উঠবে এবং আমাদেরও প্রশ্ন আছে। এমপি সাহেব হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির প্রধান। এমপি সাহেব নিয়মিত হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভা করেন। আমাদের খুবই সম্মানিত বোধ করবো তখনই, যখন এমপি সাহেবগণ নিজ এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিবেন। সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান। এই সব ক্লিনিক দেখাশোনা করা তার দায়িত্বের অংশ। সিভিল সার্জন যে সব জায়গায় দ্বায়িত্ব পালন করেননি সেসব জায়গায় অবৈধ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ‘নিউটন ক্লিনিক’ বন্ধ করলে ‘পরমানু ক্লিনিক’ নামে একই মালিক ৭ দিনের মধ্যে আর একটা ক্লিনিক বানিয়ে ফেলবে, সে বুদ্ধি তাদের আছে। এখন যদি আবার স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর হয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনকে প্রশ্ন করে বসেন এই সব প্রতিষ্ঠান এতোদিন কিভাবে চলছিল ? প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করার আগে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সিভিল সার্জনকে। ভুয়া ডাক্তাররা ব্যবসা করে আর বিএমএ দলাদলি করে।
বিএমএ এবং সিভিল সার্জনকে যদি প্রশ্ন করা যায় বিসিএস (স্বাস্থ) এটা কোন মেডিকেল কলেজের ডিগ্রি। বিএমএ এটা দেখেনা কেন? এই অভিযানের ২য় প্রশ্ন হলো কেন্দ্রে থেকে এই সব নিয়ন্ত্রণ সহজ হবেনা। তার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকেই দায়িত্ব দিতে হবে। জেলা প্রশাসন বিষয়টা দেখলে স্বাস্থ্য বিভাগ যদি শরম অনুভব করেন তাহলে আইনের কোন ঘাটতি বা সিভিল সার্জনের ক্ষমতার কমতি থাকলে ক্ষমতা বাড়িয়ে দিন । এর পর কোথাও এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান ধরা পড়লে বা কোন জেলায় ভুয়া ডাক্তার ব্যবসা করতে ধরা পড়লে শাস্তির আওতায় আসবেন সিভিল সার্জন।
মৈত্রি এক্সপ্রেস কোলকাতা পৌঁছালে ওখানকার হোটেল মালিকরা এবং হাসপাতাল মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তার মানে বুঝতে হবে, দেশের কত পরিমান মানুষ ভারতে চিকিৎসা করতে যায়। ওদেশের ডাক্তাররা কি খনি থেকে তোলা নাকি হাসপাতাল বিল্ডিং মর্মর পাথর দিয়ে তৈরি নাকি পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি মঙ্গল গ্রহ থেকে আনা হয়েছে। আমাদের দেশে অনেক কিছু বিশ্বমানের আছে। চিকিৎসাপ্রার্থীরা ভুয়া ডাক্তার, অনুমোদনহীন ক্লিনিক , ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসা নিয়ে বাধ্য হয়ে বিদেশে যাচ্ছে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা জানুন , সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিন, দেখবেন বিদেশ থেকে বাংলাদেশে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসবে।