admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, Lutfar Rahmanঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন যাবৎ খোলা আকাশের নীচে অনশন করছে। উপরে ত্রিপল দেয়া থাকলেও চারিদিকে খোলা। তীব্র এই শীতে ছেলে মেয়ে গুলোর এই নিদারুন কষ্ট একজন শিক্ষকের হৃদয়ে রহম সৃষ্টি করেনি। তিনি তার পদ আঁকড়ে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আহা কি চমৎকার একজন শিক্ষক !
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদে। ছাত্র-ছাত্রীরা তার পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছে। একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ শিক্ষাদান করা। নির্লজ্জ শাসকের ন্যায় তাকে উপাচার্য পদ আঁকড়ে থাকতে হবে কেন ? ছাত্র-ছাত্রীদেরদের সম্মানের স্থান থেকে একজন শিক্ষকের অবস্থানচ্যুত হলে সেই শিক্ষকের নৈতিক কোন অবস্থান থাকেনা।
এখন উপাচার্য নিয়োগ হয় সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায়। শাসকদলের কট্টর সমর্থক হতে হবে। এই নীতিমালার কারণে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি উপাচার্যের পদ দখল করে আছে। তাদের কাছেতো জ্বলজ্বলে উদাহরণ সৃষ্টি করে আছে শাসক দল। জনগণের সমর্থন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া যদি ক্ষমতায় থাকা যায় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে উপাচার্যের চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখতে সমস্যা কি?
নিকট অতীতে আমরা কয়েকজন উপাচার্য দেখেছি। এরমধ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নাজমুল হাসান কলিমুল্লাহ ছাড়াও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গণের নগ্ন দলীয়পনা দেশবাসী লক্ষ্য করেছেন।
একজন পিতামাতা কত কস্ট করে তার সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। আর সেই সন্তান যদি এই প্রচন্ড শীতে না খেয়ে দাবি আদায়ের সংগ্রামে অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে কার ভাল লাগবে ? আমি মনে করি নূন্যতম সম্মানবোধ থাকলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদে এর এখুনি পদত্যাগ করা উচিত। তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক হয়ে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।