admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২২ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা -ঃ অ্যাাডভকেট আবু মহীউদ্দিনঃ ছাত্র নেতা, সমাজ কর্মী , নাট্যকর্মী, ভাষা সৈনিক , ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান , বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। তাঁর সবচে বড় আইডেন্টিটি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ,আরো অনেকগুলো বিশেষণই তার আছে। তার আর একটা বিশেষণ আছে যে অর্জন এবং সংগ্রহ এখনকার সময় প্রায় অসম্ভব , তাহলো সৎ এবং নির্লোভ। তার সততা প্রশ্নের অতীত। নিভৃতচারী এই মানুষটির সম্পর্কে জানলে কেবল শ্রদ্ধায় মাথা অবনত হয়।
তিনি ৮৮ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল থেকে দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশন , সিসিইউ অতপর: ১২ জুলাই ২২ বেলা সাড়ে এগারটায় পরিণত বয়সে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা হলো। এরপর বালিয়াডাংগী গ্রামের বাড়ীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মা বাবার পাশে চিরশায়িত হয়েছেন। তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করে পুস্পার্ঘ অর্পণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ , ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা , জেলা বিএনপি ,ইএস ডিও ,উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি , ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, নিক্কন সংগীত বিদ্যালয় সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। শোক প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিছুল হক চৌধুরী, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদুজ্জামান ,মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার বদরুদ্দীন বদর , জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান , বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, আকবর হোসেনের চেয়ারম্যানকালীন কমিশনার সফিউল এনাম পারভেজ প্রমুখ। পরিবারের পক্ষে মরহুমের নাতি বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সকলেই মহান মুক্তিুযদ্ধ সংগঠনে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি দিলেন। তার সততার প্রশংসা করলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বদর উদ্দীন বললেন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে সনদ নেওয়ার কথা তিনি বলেছিলেন। কিন্তু তিনি রাজী হননি। অথচ আমরা জানি অমুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন কৌশলে নাম তালিকাভুক্ত করেছে যদিও এখন সেসব ধরা পরছে। এখানে একটা মৌলিক প্রশ্ন হলো বদর উদ্দীন সাহেবরা কেবল তাকে বলেই দ্বায়িত্বটা শেষ করেছেন। দ্বায়িত্ব নিয়ে লেগে থেকে কাজটা করা যেতো কিনা ? রাষ্ট্রের সর্বোচ্য সম্মান থেকে আমরা তাকে বঞ্চিত করলাম।
অবশ্য এসবের জন্য তিনি লালায়িত ছিলেন না। এবারের প্রসংগটা আলাদা। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সৎ মানুষ ছিলেন এ বিষয়ে আপামর জনসাধারণের স্বীকৃতি অনবদ্য। পৌরসভা, কেবলমাত্র এটা পিকআপ দিয়েছিলো ঠাকুরগাঁও থেকে বালিয়াডাংগী পর্যন্ত শবযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের পরিবহণের জন্য। পৌরসভার পক্ষ থেকে একগোছা ফুল দেওয়া কেন সম্ভব হলোনা? ২টা বেঞ্চ দিয়ে কেন খাটিয়াটা উপরে রাখা গেলোনা , জানাজার অনুষ্ঠানটা গোটা পৌরসভার তত্বাবধানে হলেই বেশী ভালো হতো , কিন্তু তা হয়নি।
আমরা মনে করি তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারলামনা। মনে রাখতে হবে নিজে সম্মান পেতে চাইলে অন্যকে সম্মানিত করতে হয়। মহান আল্লাহ পাক তাঁর বেহেস্ত নছিব করুন। সেই সঙ্গে আর একটি বিষয় প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে তা হলো ঠাকুরগাঁওয়ে কমপক্ষে একটা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ী থাকা দরকার। আল্লাহপাক যাদের বিত্ত দিয়েছেন তারা একটা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ী কিনলে ব্যবসা এবং সমাজসেবা দুটোই হবে। নিশ্চয় বিত্তবানেরা বিষয়টা ভেবে দেখবেন।