মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩০ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যসহ ১৮ জনকে আটক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ টিম।
শুক্রবার সকালে শহরের নীলসাগর হোটেল এবং পোরশা রেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যলায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই প্রতারক হলো, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব(৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আসে একজন প্রতারক কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে নওগাঁ শহরে অবস্থিত পোরশা রেস্ট হাউস নামক একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষার্থীসহ অবস্থান করছে। খবর পেয়ে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে ওই আবাসিক হোটেলের ১১ নং কক্ষ থেকে প্রতারক আহসান হাবিব (৪০) এবং তার সহযোগী প্রতারক মামুনুর রশিদ এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুর এবং তার পিতা ফারাজুলকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে প্রতারক আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনের হোয়াটস অ্যাপ পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। ওই আবাসিক হোটেলের অন্যান্য রুমে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোনেও পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। অপর আরেকটি কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী সারোয়ার এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আহসান হাবিব জানায় সে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নিবে মর্মে চুক্তি করে। সে চুক্তি মোতাবেক পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান ও ফারুকের কাছ থেকে এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা নেয় এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুরের পিতা ফারাজুলের কাছ থেকে অগ্রীম ৩০ হাজার টাকা নেয়।
তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের হোটেল নীলসাগরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী রেহান জান্নাতকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তার দুলাভাই (স্বামীর খালাতো বোনের স্বামী) মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হক শালু তাকে ৬ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়। এছাড়া মহাদেবপুরে একজনকে এবং শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অসৎ উপায় অবলম্বন করে আধুনিক ডিভাইসের সাহায্যে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগে সদর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আটজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সকলের বিরুদ্ধে সদও মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে আটকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নিয়ামুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুশফিকুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাবিবুল্লাহ হাবিব, সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নিয়ামুল হকসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||