admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২২ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাও’য়ে নর্থ সার্কুলার রোডে ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে নবী করিম(সাঃ)’র পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন নবী গত ৫০ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। এই উপলক্ষে নবী করিম (সাঃ)’র জীবনী নিয়ে আলোচনা ও দোয়া’র মাহফিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত নবী করিম(সাঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচ্য বিষয় সমুহঃ-
১) নবী করিম(সাঃ)’র পূর্বপুরুষ
২) নবী করিম(সাঃ)’র ধারণা
৩) নবী করিম(সাঃ)’র জন্ম
৪) হালিমার পরিচয়
৫) নবী করিম(সাঃ)’র এতিমত্ব
৬) আবু তালিবের ভাতিজার প্রথম কাফেলা সফর
৭) নবী করিম(সাঃ)’র ও মা খাদিজার মধ্যে বিবাহের ব্যবস্থা
৮) আল-ইসরা’
৯) আল-মিরাজ বা স্বর্গে আরোহণ
১০) আল-হিরা, প্রথম প্রত্যাদেশ, ১১) প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, ১২) নবী করিম (সাঃ) এর হিজরত, ১৩) নবী করিম(সাঃ)’র মৃত্যু
রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ২০২২ খ্রিঃ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে। ঠাকুরগাও’য়ে নর্থ সার্কুলার রোডে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মোঃ আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থেকে আগত মাওলানা মোঃ লিয়াকত আলী ও দ্বিতীয় বক্তা ঠাকুরগাঁও জেলার পুরোনো জমিদারপাড়া জামে মসজিদের খতিব ইমাম মাওলানা মোঃ মাসুদ আলম হুজুরের উপস্থিতিতে নবীজীর জীবনী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দ্বিতীয় বক্তা মাওলানা মোঃ মাসুদ আলম পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন নবী করিম (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্যদেন তিনি হুজুর পাকের বাল্য জীবনী তুলে ধরেনঃ আল্লাহ তা’আলা মানুষের হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। তারা নিজেরা আল্লাহর হুকুম পালন করে মানুষদের হাতে কলমে শিক্ষা দিতেন। তারা ছিলেন মানুষের মহান আদর্শ শিক্ষক। নবী-রাসূলগণ উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁরা ছিলেন সত্যবাদী, নির্লোভ ও নিষ্পাপ। তাঁরা ছিলেন দয়ালু ও মানব দরদী। তাঁরা আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁরা আল্লাহ তাআলার দ্বীন প্রচারে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পৃথিবীতে অনেক নবী-রাসূল এসেছেন। তাদের মধ্যে সর্ব প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম আর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর জীবনী বা জীবনাদর্শ। আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের জানা জরুরী যে মহানবী মুহাম্মদ সঃ এর জীবনী বা জীবনাদর্শ কেমন ছিল? 
প্রধান অতিথির হিসেবে মোঃ লিয়াকত আলী নবীজীর জীবনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের জন্যই জ্বীন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই মু’মিনদের সব কাজই যেন আল্লাহর তা’আলার ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় সেই লক্ষ্যে পরকালীন জীবনে জবাবদিহিতার অনু্ভূতি নিয়ে পুরো জীবনটাকে নবীজীর সুন্না ও কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সাজাতে হবে। এমনই ঈমানী চেতনা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য প্রয়োজন কর্মসূচির আলোকে কুরআনু্ল কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের যোগ্যতাসম্পন্ন, পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী প্রজন্ম গড়ে তোলা। নবী করিম(সাঃ) এর মাধম্যে মানব জাতির মুক্তির কল্যাণে মহান রাব্বুল আল আমিন কুরআন-সুন্নাহর এ শিক্ষাধারার একনিষ্ঠ সহযোগী হওয়া মু’মিনদের ঈমানী কর্তব্য। প্রথম বক্তা মহানবী সাঃ এর শৈশব ও কৈশোর মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্মের পর চাচা আবু তালিবের দাসী সোয়েবা তাঁকে মাতৃস্নেহে লালন পালন করেন। তারপর তখনকার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের প্রথা অনুসারে বানু সাদ গোত্রের বেদুঈন মহিলা হালিমার হাতে তার লালন-পালনের ভার দেওয়া হয়। সোয়েবা যদিও তাকে অল্পদিন লালন-পালন করেছেন, তবুও তিনি প্রথম দুধমাতা ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। অনেকদিন পরেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং উপহার-উপঢৌকন দিয়েছেন। পাঁচ বছর পর্যন্ত বিবি হালিমা নিজের সন্তানের মত শিশু মুহাম্মদ সাঃ কে লালন-পালন করেন।

এ সময় শিশু মুহাম্মদ সাঃ এর চরিত্রে ইনসাফ ও ত্যাগের একটি অনুপম দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। তিনি হালিমার একটি স্তন থেকে দুধ পান করতেন। অন্যটি দুধ ভাই আব্দুল্লাহর জন্য রেখে দিতেন। তিনি বেদুইন পরিবার থেকে বিশুদ্ধ আরবী ভাষা শিখেন ও মরুভূমির মুক্ত পরিবেশে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন। পাঁচ বছর বয়সে তিনি মা আমিনার কোলে ফিরে আসেন। আদর সোহাগে মা তাকে লালন পালন করতে থাকে।ন কিন্তু মায়ের আদর তার কপালে বেশি দিন স্থায়ী হল না। তার ছয় বছর বয়সে মাও ইন্তেকাল করেন। এবার তিনি পিতা-মাতা দু’জনকেই হারিয়ে এতিম হয়ে যান। এরপর তিনি দাদা আবদুল মুত্তালিবের আদর-স্নেহে লালিত-পালিত হতে থাকেন। কিন্তু আট বছর বয়সের সময় তার দাদাও মারা যান। এরপর তিনি চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হতে থাকেন। আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। কিশোর মোহাম্মদ সাঃ ছিলেন কর্মঠ। আকারও গলগ্রহ হয়ে থাকা তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি চাচার অস্বচ্ছল পরিবারের নানাভাবে সাহায্য করতেন। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দ্বীন প্রচার, হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইসলাম প্রচারে তায়েফ গমন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ মেরাজে গমন,সর্বশেষ কথা মহানবী সাঃ ছিলেন উত্তম চরিত্রের মানুষ। ক্ষমা, উদারতা, ধৈর্য, সহিংসতা, সততা ও সত্যবাদিতা, দয়া, দানে, কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে, মানবতা ও মহত্ব সকল গুনাবলির অধিকারী। তিনি ছিলেন সর্বকালের সকল মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ। এজন্য আল্লাহ তা’আলা বলেন, لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة অর্থাৎ রাসূল সাঃ এর জীবনে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। ( সূরা আহযাব, আয়াত ২১) সুতরাং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ মেনে চলা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বা আবশ্যক। এ নিয়া ব্যপক আলোচনা করেন।