ইব্রাহিম আলম সবুজ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আতিকুর রহমানের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন ইসলামী যুব আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির স্থানীয় এক নেতা। এ ছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীও তাঁর মনোনয়ন ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইসলামী যুব আন্দোলনের বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার দাবি, আতিকুর রহমান প্রথমে সংগঠনটির সদস্য ছিলেন। পরে ২০২৫ সালে গঠিত একটি খসড়া কমিটিতে তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন বলে দাবি করেন রেজাউল করিম। তাঁর ভাষ্য, সে সময় কার্যালয়ের কার্যক্রম সক্রিয় না থাকায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আতিকুর রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট প্রকাশিত একটি পোস্টে একই বছরের ৯ আগস্ট রাজারহাটের ব্যাপারীপাড়া জামে মসজিদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পোস্টে তাঁর সাংগঠনিক পদ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই।
আতিকুর রহমানের মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন শাখার সাবেক সেক্রেটারি মো. আরিফুল ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ের আগে আতিকুর রহমান ইউনিয়ন এমনকি কোনো ওয়ার্ড পর্যায়েও সাংগঠনিক পদে ছিলেন না। ইউনিয়ন সভাপতি মোশাররফ হোসেন ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলদের আতিকুরের পক্ষে প্রচারণা চালাতে প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, বিষয়টি উপজেলা সেক্রেটারি আহাম্মদ আলীকে জানানোর পর একটি বৈঠক হয়। সেখানে ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলেরা তাঁদের প্রভাবিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ইউনিয়ন সভাপতি তা স্বীকার করেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও কীভাবে আতিকুর রহমান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই সেক্রেটারি।
আরিফুল ইসলামের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে ইউনিয়ন কমিটি থেকে সরিয়ে উপজেলা পর্যায়ের যুব বিভাগের সহসভাপতি করা হয়েছে। তবে ওই বিভাগের কমিটি গঠনের কোনো সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং সভার বার্তাও পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ইউনিয়ন কমিটি থেকে সরানোর কৌশল হিসেবে তাঁকে ওই পদে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, ইউনিয়ন সভাপতি এর আগে জাতীয় পার্টির সালাম সর্দারকে জামায়াতের প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন আরিফুল ইসলাম। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের আরেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. হারুনুর রশিদও। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের আগে আতিকুর রহমান জামায়াতের কর্মী ছিলেন না। গত নির্বাচনে আতিকুর রহমানকে জামায়াত-সমর্থিত এনসিপি জোটের প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদের নির্বাচনী প্রচারণায় দেখেছিলেন বলে জানান তিনি। তখন তাঁর ধারণা হয়েছিল, আতিকুর হয়তো এনসিপির কর্মী হিসেবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
নিজের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে হারুনুর রশিদ বলেন, “তিন মাস আগেও আমি বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি ছিলাম এবং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলাম। এখন কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও রাজারহাট পশ্চিম সাথী শাখার প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমানও আতিকুর রহমানের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আত্মীয়তার সূত্রে জামায়াতের একটি অংশ আতিকুর রহমানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে। এ কারণে তিনি ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতের বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আতিকুর রহমান বর্তমানে ইউনিয়নের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি। এর আগে তিনি অন্য কোনো পদে ছিলেন না। চলতি কমিটিতেই তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আতিকুর রহমানও চলতি কমিটিতে পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমানের পাশাপাশি একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মো. হারুনুর রশিদের নামও আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থী বাছাই, দলীয় মনোনয়ন ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।