admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১:৫০ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার মাঝে গত মাসে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কারণ ভারতের বিপক্ষে ভালো করায় পাকিস্তানের বিপক্ষেও ভালো কিছুর আশায় ছিল টাইগাররা। কিন্তু টি-২০ সিরিজটি মোটেও সুখকর হয়নি তাদের। এবার টাইগারদের মিশন টেস্ট। সর্বশেষ খেলা পাঁচ টেস্টেই হার বাংলাদেশের। তারমধ্যে ঘরের মাঠে হার আছে আফগানিস্তানের কাছেও। এসব ম্যাচে হারের ধরনও ছিল বড়ই দৃষ্টিকটু। সাদা পোশাকে বাংলাদেশ যেন বড়ই রুগণ। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে মাঠে নামার আগে টানা হারের এই গস্নানি দূর করার আশা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। টি-২০ সিরিজের মতো এবারকার টেস্ট সফরে গিয়েও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না টাইগাররা। আগেরদিন সকালে গিয়ে একদিনের অনুশীলন দিয়েই নামতে হচ্ছে মাঠের মূল লড়াইয়ে। খেলতে হবে প্রথম টেস্ট। প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ না পেলেও ঘরের মাঠে সদ্য শেষ হওয়া বিসিএলে ব্যাট হাতে বেশ ভালোই ছন্দে ছিলেন তামিম-মুমিনুলরা। তবে টি-২০ সিরিজের মতো এবার টেস্টেও মুশফিকুর রহিমকে পাচ্ছে না সফরকারীরা। অন্যদিকে টেস্টে টাইগারদের থেকে র?্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকলেও এই সংস্করণে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। গত বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১০ বছর পর দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট ফিরলেও সঙ্গী হয়েছিল হারের হতাশা। লংকানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ হেরেছিল ১-০তে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে সেই জ্বালা দূর করতে চায় তারা। এমন সমীকরণকে সামনে রেখে আজ সকাল ১১টায় রাওয়ালপিন্ডির ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রায় পাঁচ বছর পর টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিল টাইগাররা। দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। খুলনায় হওয়া প্রথম টেস্টটি ড্র করে টাইগাররা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ড্রয়ের স্বাদ নেয় স্বাগতিকরা। তামিম ২০৬ ও ইমরুল ১৫০ রান করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩১২ রান। সদ্য শেষ বিসিএলে অপরাজিত ৩৩৪ রানের আগে তামিমের ২০৬ রানটিই ছিল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আর সর্বশেষ ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফর করেছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দলটি। তবে ওই সিরিজের স্মৃতি এখনো কাঁদায় বাংলাদেশকে। মুলতানে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের কাছে ১ উইকেটে হার মানে টাইগাররা। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হকের অপরাজিত ১৩৮ রানে হারের লজ্জা পেয়েছিল সফরকারীরা। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ৯টিতে হেরেছে টাইগররা। একমাত্র ড্রটি ছিল খুলনায় তামিম-ইমরুলের ব্যাটিং দৃঢ়তায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশ ছেড়েছিল মুমিনুলরা। দীর্ঘ-ভ্রমণ শেষে বুধবার সকালে দ্বিতীয় দফার সফরে পাকিস্তানে পৌঁছায় টাইগাররা। আজ দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে মোমিনুল হকের দল। রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্টটি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ বলে, দুই দলের কাছেই টেস্টটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পঞ্চম, বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ এটি। স্বাগতিকদের লক্ষ্য দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশের প্রথম। ঘরের মাঠে সব শেষ টি২০ সিরিজে বাংলাদেশ অনায়াসে হারিয়েছে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে হেরে ফিরেছে বাজেভাবে। ফর্ম, কন্ডিশন আর খেলোয়াড়দের তুলনা করলে দুই দলের অবস্থা বিপরীতমুখী। এই অবস্থাতেও দেয়ালে পিঠ টেকে যাওয়া পরিস্থিতি ঠেলে সরাতে মরিয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল। টেস্ট শুরুর আগের দিন রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি শুনিয়েছেন প্রত্যাশার কথা, ‘দেখেন, একটা সময় না একটা সময় এই টানা হারের বৃত্ত ভাঙতে হবে। আমরা এই ম্যাচটা নিয়ে আশাবাদী। দেশের বাইরে টেস্ট আমরা এতটা ভালো খেলতে পারি না। আমরা নিজেদের উন্নতির দিকে মনোযোগী এবং আমরা ভালো খেলতে চাই। যদিও গত কয়েকটি সিরিজ থেকেই পুরোশক্তি নিয়ে নামতে পারছে না বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞায় নেই সাকিব আল হাসান। ভারতে ব্যক্তিগত কারণে যাননি তামিম। পাকিস্তান সফর তামিম ফিরলেও এখানে নিরাপত্তা শঙ্কায় নেই মুশফিক। সেরা খেলোয়াড়দের না থাকার ঘাটতি স্বীকার করে মুমিনুল অন্যদের সুযোগটাও দেখছেন বড় করে। রাওয়ালপিন্ডিতে এর আগে কখনোই টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মাঠে ১৬ বছর আগে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল দল। কন্ডিশনটা তাই একটু অচেনা। প্রচন্ড শীতের সঙ্গে উইকেট নিয়েও আছে অস্বস্তি। তবে অধিনায়ক এসব ঘাটতি আড়াল করেই নিজেদের মানসিকভাবে শক্তি রাখতে চাইলেন, ‘যে দেশে যাবেন সে দেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তো, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় যে, কন্ডিশনটা খুব ভালো, একটু ঠান্ডা আছে তবে সেটা ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারব।
ঘরের মাঠে টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশকে সহজেই হারিয়েছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের আগে তাই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্বাগতিকরা। যদিও লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করছেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক আজহার আলী। তার মতে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে সফরকারীরা আমাদের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করে খেলবে। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থা মোটেও সুবিধার নয়। ২০১৯ সালে খেলা পাঁচ টেস্টের সব ক’টিতে হেরেছে বিশাল ব্যবধানে। যার মধ্যে রয়েছে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারও। তারপরও রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে আগে সফরকারী বাংলাদেশকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্বাগতিক অধিনায়ক। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। আজ মাঠে গড়াবে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট। তার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক অধিনায়ক আজহার বলেছেন, বাংলাদেশ খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রতিপক্ষ দলে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় আছে যারা কিনা একাই একটি ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন। তাইতো বলতে চাই তারা সব হিসাব পাল্টে দেওয়া ক্ষমতা রাখে। তাই বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তাদের দলে অনেকেরই ম্যাচ জেতানোর সামর্থ আছে। তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে হয়নি শেষ ম্যাচটি। এবার ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেতে চায় তারা। গত বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১০ বছর পর দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট ফিরলেও সঙ্গী হয়েছিল হারের হতাশা। লংকানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ হেরেছিল ১-০ তে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে সেই জ্বালা জুড়াতে চান আজহার, ‘আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব (টেস্ট সিরিজ জেতার)। আমরা টেস্টের প্রতিটি সেশন বাই সেশন খেলতে চাই। আর প্রতিটি সেশনে আমাদের দলের কর্তৃত্বটা তুলে ধরার জন্য সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করব।